Header Ads Widget

High Alert
Breaking News
LIVE
ঈদযাত্রা: ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু • ওমান উপকূলে তেল ট্যাংকারে হামলায় ১ নিহত • আজ ঢাকায় আসছেন পল কাপুর • চট্টগ্রামে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার সেই শিশুর মৃত্যু • সৌদিতে প্রবাসীদের জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি • ইরানকে সমর্থন জানাল চীন • সৌদিতে মার্কিন দূতাবাসে ইরানের ভয়াবহ হামলা • আজ ‘ব্লাড মুন’—পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ • কাতারে স্থগিত সব ফুটবল • স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজ প্রি-অর্ডার শুরু • এশিয়ান কাপ ফুটবলে আজ চীনের মুখোমুখি বাংলাদেশ •

মাহে রমজানঃ আত্মশুদ্ধির বসন্তকাল (পর্ব-৩)


পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে খিলাফাহ মর্নিং ২৪ এর পক্ষ থেকে প্রিয় পাঠক গণের জন্য ধারাবাহিক আয়োজন “মাহে রমজানঃ আত্মশুদ্ধির বসন্তকাল” এর তৃতীয় পর্বে আমরা রমজান মাসে গুরুত্বপূর্ণ আমল ও তাসবিহ এর বিষয়ে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। 

বছর ঘুরে আমাদের মাঝে আবারও রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে পবিত্র মাহে রমজান। রমযান হচ্ছে, প্রশিক্ষণের মাস। তাই রাসূলুলাহ (সা) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি ঈমান ও কেবলমাত্র সওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে রমযানের রোযা রাখে, আলাহ তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেন।  

মুমিন মুসলমানের জীবনে এই মাসটি কেবল উপবাস থাকার মাস নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং আত্মশুদ্ধির এক অনন্য প্রশিক্ষণকাল। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে রমজান মাসে বেশি বেশি যে তাসবিহ ও দোয়াসমূহ পড়া উচিত, তা তুলে ধরা হলো—

   • রমজানে তাহাজ্জুদঃ  নামাজ আদায় করতে পারা টা খুবই সৌভাগ্যের। রহমতের শ্রেষ্ঠ মাস রমজান এবং শ্রেষ্ঠ সময় তাহাজ্জুদের সময়। তাহাজ্জুদের সময়ে প্রতি রাতেই আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন, তাই এটিই মহান রবের নিকটবর্তী হওয়ার শ্রেষ্ঠ সময়।   তাহাজ্জুদ নামাজে আল্লাহর কাছে মন থেকে কিছু চাইলে আল্লাহ কখনো ফিরিয়ে দেননি, শুধুমাত্র যারা তাহাজ্জুদে একমাত্র পালনকর্তা ও রিজিকদাতার কাছে চেয়ে নিতে শিখে গেছে, তারাই জানে। 

      • আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করুনঃ  سُبْحَانَ اللَّهِ وَ بِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ العَظِيمِ। 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম'। অর্থ আমরা আল্লাহ তায়ালার প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, মহান আল্লাহ অতীব পবিত্র।  • বেশি বেশি পড়ুনঃ  اللَّهمَّ إنَّك عفُوٌّ كريمٌ تُحِبُّ العفْوَ، فاعْفُ عنِّي " আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওউন কারীম , তুহিব্বুল আফওয়া, ফা'ফু আ'ন্নি "  (অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করুন) বেশি বেশি পড়া জরুরি। রমজানে পাঠযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ তাসবিহ ও আমলসমূহ: 

১. বেশি বেশি দুরুদ শরিফ পাঠ করুনঃ (ওযু অবস্থায়) اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى سَيِّدِنَا وَمَوْلَانَا مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِهِ وَسَلِّمْ আল্লাহুম্মা সল্লি আলা সাইয়িদিনা মাওলানা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লিম।   

২. তাসবিহে ফাতেমি (প্রতি ফরজ নামাজের পর): সুবহানাল্লাহ (৩৩ বার), আলহামদুলিল্লাহ (৩৩ বার), আল্লাহু আকবার (৩৪ বার)। 

   ৩. ইস্তিগফার: أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ 'আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহ ইল্লা হুয়াল হাইয়ূল কাইয়ুম, ওয়াতূব ইলাইহি, লা হাওলা ওয়া লা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যুল আজিম ',  ' (সবচেয়ে বেশি পাঠ করা)। অর্থঃ [ "আমি সেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরন্তন এবং আমি তাঁর কাছে ফিরে আসি। মহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া গুনাহ থেকে বাঁচার ও নেক কাজ করার কোনো শক্তি নেই"।]

৪.  আল্লাহর একত্ববাদের  সাক্ষী হিসাবে পাঠ করুনঃ «لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، يُحْيِي وَيُمِيتُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ»   লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহূ,  লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ইউহই ওয়া ইউমিতু,  ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়ীন কাদির। ["আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। সব রাজত্ব ও সব প্রশংসাই তাঁর এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান"] 

    ৫. জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া  নিজের প্রয়োজনে এই প্রার্থনা বেশি বেশি করা উচিতঃ   اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ (আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল জান্নাহ ওয়া আয়ুজুবিকা মিনান্নার   (হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নামের আগুন হতে পানাহ চাই)।   

৬. উত্তম ইবাদাত ও উত্তম রিজিকের জন্য দোয়া : اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ  ('আল্লাহুম্মা আ-ইন্নি আলা জিক্রিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিক') [হে আল্লাহ, আমাকে আপনার জিকির, শুকরিয়া ও সুন্দর ইবাদত করার তাওফিক দান করুন]। রমজানের রোজা, তারাবিহ এবং কোরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি এই তাসবিহগুলো জীবনের গুনাহ মাফ এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভে সহায়ক হবে ইনশাল্লাহ।   চলবে…… 

Post a Comment

0 Comments