জানাগেছে, গত ১৮ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গোপসাগরে আয়োজিত ভারতের সঙ্গে ‘মিলন’ (Milan) আন্তর্জাতিক নৌ-মহড়ায় অংশ নিয়েছিল এই যুদ্ধজাহাজটি। রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে ছিল অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে।
এদিকে, ইরানে যৌথ হামলা করার একদিন আগে ইজরায়েল সফরে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরের দিন ভারতের দুই প্রতিবেশি দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মাঝে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। তার পরের দিনই ভারত মহাসাগরের জলসীমায়ই ইরানের যুদ্ধজাহাজকে ডুবিয়ে দেয় আমেরিকান টর্পেডো।
অনেকের কাছে বিষয়গুলো কো-ইন্সিডেন্স মনে হলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রে কো-ইন্সিডেন্স বলতে কোনো শব্দ নেই। এসব পরিকল্পিত বিষয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মাঝে অনুষ্ঠিত গোপন বৈঠক এবং যৌথ পরিকল্পনার অংশ হচ্ছে একইসঙ্গে ইরানে হামলা এবং আফগানিস্তান পাকিস্তানের মাঝে যুদ্ধ বেধে দেওয়া। এই ‘অতি গোপন বৈঠক ও পরিকল্পনার’ উদ্দেশ্যেই ইসরায়েল সফর করে থাকতে পারেন মোদি। সাধারণত, বৃহৎ কোনো অভিযান বা যুদ্ধের আগে এভাবে ভিভিআইপি অতিথিকে আমন্ত্রন জানানো বা সফরের রেওয়াজ নেই। সেই থেকে এটা স্পষ্ট যে, মোদির এই সফর ইরানে হামলারই অংশ।
বিষয়টি এমন হতে পারে যে, আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনীতি সম্পর্ক ভালো থাকায় তাদেরকে ব্যবহার করে পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে ইসরায়েল। এতে আঞ্চলিক অস্থিরতা দমন করতে পাকিস্তান যেসময় ব্যস্ত, ঠিক তখনই পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী ইরানে হামলা চালায়।
আমরা যদি এর আগে ২০২৫ সালের ১২ দিন ব্যাপী ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের দিকে ফিরে তাকাই, সেখানে লক্ষণীয়; যখন ইজরাইল ইরানে হামলা চালায় তখন বিশ্বের সমস্ত দেশকে পাশ কাটিয়ে পাকিস্তান একমাত্র ইরানের পক্ষে জোড়াল সমর্থন দিয়ে সার্বিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। যে কারণেই ওই সময় ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ স্থায়ী হয়নি। ইসরায়েলের জিতে আসা সম্ভব হয়নি। বরং গণ বিক্ষোভসহ বড় ক্ষতির মুখে পতিত হয় দেশটি।
পক্ষান্তরে, এবার যখন ইসরায়েল ইরানে হামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ঠিক তখনই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েল সফর করেন।
এতে বোঝাযায়, ভারত পরিকল্পিতভাবেই ইরানকে নৌ মোহরায় আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকতে পারে, যাতে ইরান তার ইমেজ রক্ষার্থে সবচাইতে চৌকস নাবিকদেরকে ভারত মহাসাগরে পাঠিয়ে দেয়। একদিকে, ইসরাইলকে সহযোগিতার অংশ হিসেবে ভারত তালেবান এর সঙ্গে তার কূটনৈতিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে নিজ দেশের যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে ইরানকে সহযোগিতা করার জন্য অপ্রস্তুত অবস্থায় পাকিস্তান সরকার।
অপরদিকে, ইরানে চলমান আমেরিকা-ইসরায়েল যৌথ আগ্রাসনের মধ্যেই ভারতীয় জল সীমায় থাকা ইরানের যুদ্ধজাহাজকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্য গোয়েন্দা তথ্যসহ সকল প্রকার সহযোগিতা করে থাকতে পারে ভারত।
ভারতের সঙ্গে ইরানের কূটনীতি সম্পর্ক ছিল উষ্ণ। দুর্দিনে ভারত যখন জ্বালানি আমদানিতে আমেরিকান নিষেধাজ্ঞার কবলে জর্জরিত, তখন ইরান সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে ভারতকে জ্বালানি সরবরাহ করে মানবিক সহযোগিতা করেছিল। এই অকৃতজ্ঞ ভারত জাতি তাদের দুঃসময়ের বন্ধু ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলকে সকল প্রকার সহযোগিতা করে চরম অকৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিষ্টাচারকে নির্লজ্জভাবে লংঘন করেছে। এটি বিশ্বাসঘাতকতা। এর জবাব ভারতকে একদিন দিতেই হবে।

0 Comments