Header Ads Widget

High Alert
Breaking News
LIVE
ঈদযাত্রা: ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু • ওমান উপকূলে তেল ট্যাংকারে হামলায় ১ নিহত • আজ ঢাকায় আসছেন পল কাপুর • চট্টগ্রামে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার সেই শিশুর মৃত্যু • সৌদিতে প্রবাসীদের জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি • ইরানকে সমর্থন জানাল চীন • সৌদিতে মার্কিন দূতাবাসে ইরানের ভয়াবহ হামলা • আজ ‘ব্লাড মুন’—পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ • কাতারে স্থগিত সব ফুটবল • স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজ প্রি-অর্ডার শুরু • এশিয়ান কাপ ফুটবলে আজ চীনের মুখোমুখি বাংলাদেশ •

১৭ই রমজান: অশ্রুসিক্ত শ্মশ্রু আর খুনে রাঙা বদর প্রান্তর


আজ ঐতিহাসিক বদর দিবস। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে, ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ মার্চ, ২য় হিজরির ১৭ই রমজান মদিনার মুসলিম ও মক্কার কুরাইশদের মধ্যে সংঘটিত হয় এ যু*দ্ধ। যা ইসলামের ইতিহাসে প্রথম আত্মরক্ষামূলক এই সশস্ত্র যু*দ্ধ ‘গায্ওয়ায়ে বদর’বা বদর যু*দ্ধ নামে প্রসিদ্ধ। এই দিন মদিনা মুনাওয়ারা থেকে ৮০ মাইল দূরে ঐতিহাসিক বদর নামক স্থানে সংঘটিত হয়েছিল ইসলামের প্রথম সমর।

বদর প্রান্তরেই ইসলামের সূর্য উদিত হয়েছে, প্রথম বিজয় পতাকা উড্ডীন হয়েছে। বদরের বিজয় ছিল নবী (ﷺ)এর অশ্রুভেজা দাঁড়িতে দোয়া আর ১৪ জন শহিদ সাহাবিদের তাজা খুনের ফসল। মাহে রমজানে ওই বছরই মদিনায় প্রথম সিয়াম পালিত হয়।

‘বদর যু*দ্ধ’ ছিল শিশু ইসলামের অস্তিত্বের লড়াই। হিজরতের পর, হুজুর পাক (ﷺ) এর হাতে পৃথিবীর প্রথম লিখিত শাসনতন্ত্র ‘মদিনা সনদ’-এর ভিত্তিতে ইসলামী রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন হয় মদিনায়। এতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও দলমতনির্বিশেষে মদিনার পৌত্তলিক, ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলমানরা বিনা প্রতিবন্ধকতায় নিঃশঙ্কচ জীবনযাপন করতে শুরু করে। ইসলামের মর্মবাণী ধীরে ধীরে আরব উপদ্বীপ ছেড়ে বহির্বিশ্বে প্রচারিত হচ্ছিল, তখন মক্কার কাফের সম্প্রদায় ও মদিনার ষড়যন্ত্রকারী মুনাফিকরা চক্রান্ত করে নবী করিম (ﷺ) ও ইসলামকে দুনিয়া থেকে চিরতরে উৎখাত করতে যুদ্ধের রণপ্রস্তুতি গ্রহণ করে।

এ যু*দ্ধে মুসলমানদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘চূড়ান্ত মীমাংসা’ হয়েছিল। ৩১৩ জন মুসলমানের দল তৎকালীন রণকৌশলে পারদর্শী অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত কাফের বাহিনীর সঙ্গে যু*দ্ধে অবতীর্ণ হয়ে ইসলামের বিজয় ছিনিয়ে আনে।

ইসলামের ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম সবচেয়ে বড় যু*দ্ধ। এ যু*দ্ধে মোট ১৪ জন সাহাবা শহীদ হন অপর পক্ষে ৭০জন মুশরিককে হ*ত্যা ও আরো ৭০ জনকে বন্দী করা হয়। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘বদরের যু*দ্ধে যখন তোমরা হীনবল ছিলে, আল্লাহ তো তোমাদের সাহায্য করেছিলেন। সুতরাং, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১২৩)

দ্বিতীয় হিজরির রমজান মাসের ১৭ তারিখ। বদরের মাঠে কোরাইশ নেতা আবুজেহেলের নেতৃত্বে ছিল এক হাজার অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত অশ্বারোহী সৈন্য। 

আর নিখিল বিশ্বের ত্রাণকর্তা স্বয়ং সেনাপতি রাসুলুল্লাহর (ﷺ) সঙ্গে প্রাণোৎসর্গে প্রস্তুত ৬০ জন মুহাজির ও ২৫৩ জন আনসার সহ মোট ৩১৩ জন সাহাবি।

অস্ত্র মাত্র তিনটি ঘোড়া, ৭০টি উট, ছয়টি বর্ম ও আটটি তলোয়ার। তবে এই যুদ্ধের প্রধান উপকরণ ছিল ইমানের বল। অস্ত্রবল ও সংখ্যা নয়। 

মুসলিম বাহিনী বীরবিক্রমে লড়াই করে ইসলামের বিজয় কেতন ছিনিয়ে আনেন। কাফেরদের বহু অস্ত্র ও রসদপত্র মুসলমানদের হস্তগত হলো।

আজ বিশ্ব মুসলমানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ধনে-জনে, জ্ঞান-গরিমায় পিছয়ে নেই তারা। নবিজির (ﷺ) জামানায় না ছিল ধন, না ছিল জনবল, ছিল না কোনো ডক্টরেট-মাস্টার্স করা উচ্চশিক্ষিতের ছড়াছড়ি। আজ সে ইসলাম বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে অঢেল সম্পদ নিয়ে।

একদা নবিজি খুব আফসোস করে বলেছেন, একদিন আমার উম্মত অনেক সম্পদের মালিক হবে। হায়! সেদিন তারা ইমানি সম্পদে জীর্ণশীর্ণ জাতিতে পরিণত হবে। জাগতিক দৃষ্টিতে দেখলে যে কেউই যুদ্ধের আগে মুমিনবাহিনীর নিশ্চিত পরাজয়ের কথা বলে দিতে পারবে; কিন্তু এ বাহিনী তো জাগতিক দৃষ্টির বাইরেও আরেকটি দৃষ্টি অর্জন করেছিল। তা হলো ইমানি দৃষ্টি। জাগতিক অস্ত্র ছাড়ও ইমানি অস্ত্র তাদের কলবের খাপে মোড়া ছিল। তাইতো তারা আল্লাহর ওপর ভরসা করে, খেজুর গাছের শুকনো ঢাল হাতেই ঝাঁপিয়ে পড়ে চকচকে তরবারীধারীদের ওপর।

বুখারি শরিফের কিতাবুল মাগাজিতে এসেছে, যেসব সাহাবি শুকনো খেজুরের ঢাল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, একসময় তারা দেখে খেজুরের ঢাল আর খেজুরের ঢাল নেই। চকচকে তরবারি হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ। জাগতিক অস্ত্রের মোকাবিলায় ইমানি অস্ত্র এমনই হয়। 

জগতের মানুষ ভরসা করে জাগতিক উপকরণের ওপর। মুমিন ভরসা করে আল্লাহর ওপর। তাইতো রাসূল (ﷺ) যুদ্ধ শুরুর আগে আগে আকাশের দিকে দু’হাত বাড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বারবার বলছিলেন, হে আল্লাহ, এত বিশাল সেনাবাহিনীর মোকাবিলা করার শক্তি এ ছোট্ট মুমিন বাহিনীটির নেই। আজ যদি এ মুমিনবাহিনী হেরে যায়, তাহলে তোমাকে আল্লাহ বলে ডাকার আর কেউই থাকবে না। এভাবে দোয়া করে রাসূল (ﷺ) ঝাঁপিয়ে পড়লেন যুদ্ধের ময়দানে। আল্লাহর সাহায্য নাজিল হলো। বিশ্বাসীরা জয়ী হলো। 

আফসোস! আজ মুসলমানের সব আছে, শুধু ইমানি শক্তিতে তারা হয়ে পড়েছে জীর্ণশীর্ণ। পৃথিবীর এখানে-ওখানে অন্যায়-অসত্য মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, মানবতার মুখে চুনকালি মেখে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের স্টিমরোল চালানো হচ্ছে, হায়! মুসলমানদের সাহায্যে মুসলমান এগিয়ে আসছে না।

১৭ রমজান বদর যুদ্ধ থেকেই শুরু হয় ইসলামের যাত্রা। তওহিদ ও ইমান যে এক অজেয় শক্তি, এর সামনে দুনিয়ার সব শক্তিই মাথা নত করতে বাধ্য, এ কথা মুসলমানরা পূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে পারেন। বস্তুত, বদর যুদ্ধ ছিল ইমানের মহাপরীক্ষা। এতে রোজাদার সাহাবিরা যেভাবে সফলকাম হতে সক্ষম হয়েছেন, ইতিহাসে তার তুলনা নেই।

সাফল্যের অপূর্ব বিজয়গাথা ইসলামের ত্যাগের শিক্ষায় সত্য ও ন্যায়ের পথে মুসলমানদের যুগ যুগ ধরে প্রাণশক্তি জুগিয়ে আসছে।


------এস আর প্রিন্স   





Post a Comment

0 Comments