Header Ads Widget

High Alert
Breaking News
LIVE
ঈদযাত্রা: ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু • ওমান উপকূলে তেল ট্যাংকারে হামলায় ১ নিহত • আজ ঢাকায় আসছেন পল কাপুর • চট্টগ্রামে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার সেই শিশুর মৃত্যু • সৌদিতে প্রবাসীদের জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি • ইরানকে সমর্থন জানাল চীন • সৌদিতে মার্কিন দূতাবাসে ইরানের ভয়াবহ হামলা • আজ ‘ব্লাড মুন’—পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ • কাতারে স্থগিত সব ফুটবল • স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজ প্রি-অর্ডার শুরু • এশিয়ান কাপ ফুটবলে আজ চীনের মুখোমুখি বাংলাদেশ •

মাহে রমজানঃ আত্মশুদ্ধির বসন্তকাল (পর্ব-৪)



নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আ’লা রাসূলিহিল কারীম। আম্মা বাআদ।

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে খিলাফাহ মর্নিং২৪ এর পক্ষ থেকে বিশেষ আয়োজন ‘মাহে রমজানঃ আত্মশুদ্ধির বসন্তকাল’ এর চতুর্থ পর্বে সম্মানিত পাঠক গণকে আন্তরিক সালাম ও মোবারকবাদ। 

ধারাবাহিক পর্বে আজকে আলোচিত হবে রমজান মাসে সিয়ামকে কিভাবে সাধনায় পরিণত করবেন।

প্রিয় পাঠক, আমরা যারা পূর্ববর্তী ধারাবাহিক তিনটি পর্বের বিষয়গুলো পাঠ করেছি তারা নিশ্চয়ই পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছি খিলফাহ মর্নিং২৪ এর রমজান উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন গতানুগতিক বা প্রচলিত ধর্মীয় আলোচনা, ওয়াজ বা ইসলামিক প্রবন্ধের মত নয়; কিছুটা ব্যতিক্রম।

খিলফাহ মর্নিং২৪ এর পক্ষ থেকে মূলত শুধু গদবাধা আলোচনা নয়; বরং আলোচ্য বিষয়কে পাঠকের হৃদয়ে বহন উপযোগী করা এবং বাস্তবে প্রতিফলিত করার উপযোগী করেই তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। ইনশাল্লাহ আজকের পর্বে সিয়ামকে সাধনায় পরিণত করার জন্য একজন মুমিন হিসেবে আমাদের কি কি করণীয় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

আমরা প্রথমেই জেনে নেই সিয়াম বা রমজানের রোজা আমাদের কি শিক্ষা দেয়?

আল্লাহপাকের ফরমান অনুযায়ী, রোজা তাকওয়াবান হওয়ার জন্য বান্দার প্রতি আরশের মালিকের পক্ষ থেকে বিশেষ সুযোগ। আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি তাকওয়া নির্ভর করে ঈমানের উপর। আপনি ঈমানদার কিনা সেই বাস্তবতার উপর নির্ভর করবে তাকওয়া অর্জন করার পদ্ধতি ও সফলতা। আর ইমান নির্ভর করছে দুটি সুস্পষ্ট বিষয়ের উপর। তার মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে আল্লার একত্ববাদ ও মোহাম্মদ সাঃ এর নবুয়্যাত কে স্বীকার করা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে নিজের জীবনে বা পৃথিবীতে কোন পর্যায়েই আল্লাহ পাকের হুকুমতের বিপরীতে অন্য কোন হুকুম বা নির্দেশনাকে গ্রহণ না করা (মেনে না নেওয়া)।

এখন যদি আপনি নিশ্চিত হয়ে থাকেন যে উপরের দুইটি বিষয়ের আলোকে আপনি নিজেকে ঈমানদার বলে নিজে সাব্যস্ত করার যোগ্যতা আপনার রয়েছে তাহলে আজকের আলোচনাটি শুধু আপনার জন্যই।

এখন প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আসি। রোজা আমাদের আসলে যা শিক্ষা দেয় তা হচ্ছে তাকওয়া অর্জনের মূল উপাদান ধৈর্য — যার সঙ্গে ত্যাগ ও আন্তরিকতাসহ তাকওয়াবান হওয়ার জন্য যত গুণের প্রয়োজন হয় সকল গুণাবলী এক সূত্রে সংযুক্ত। 

এক কথায় বললে, ধৈর্যই ঈমান। ঈমানদারের ধৈর্যই তার তাকওয়াবান হওয়ার একমাত্র মাধ্যম।

আপনি যখন ঈমানদার হয়েছেন তখন আপনি আল্লাহ পাকের সঙ্গে একটি ব্যবসায় নেমেছেন। কোরানের ভাষায় বলা হয়েছে ‘জান্নাতের বিনিময়ে আল্লাহ পাক মুমিনদের জান ও মাল কিনে নিয়েছেন’। 

ঠিকই ধরেছেন। আপনি যদি মুমিন হয়ে থাকেন আপনার জীবন ও সম্পদ আল্লাহর কাছে বিক্রি করবেন জান্নাতের বিনিময়ে।

কিভাবে বিক্রি করবেন? 

আপনি যদি তাকওয়াবান না হন, আল্লাহ আপনার এই জান ও মাল কিনবেন না। আর আপনি যখন তাকওয়াবান হওয়ার জন্য চেষ্টা করবেন; সেই চেষ্টার নামই ধৈর্য। 

যেই প্রক্রিয়ায় আপনি তাকওয়াবান হবেন ও যে প্রক্রিয়ায় আপনি আল্লাহর কাছে জান ও মাল বিক্রি করবেন ঐ প্রক্রিয়ার নামই হচ্ছে সবর বা ধৈর্য। 

রমজান আমাদের ধৈর্যের শিক্ষা দেয়। এই শিক্ষার নামই সাধনা। 

মুমিন বান্দার জন্য আল্লাহ পাকের দরবারে তাকওয়াবান হিসেবে গৃহীত হওয়ার জন্য যত বেশি ধৈর্যের প্রয়োজন তা সাধনার মাধ্যমেই অর্জন করতে হয়। তাই ধৈর্য অর্জনের শিক্ষা সিয়ামকে সাধনায় পরিণত করতে পারাই মুমিনের একমাত্র মুক্তির পথ। 

সিয়াম যেভাবে সাধনায় পরিণত হয়ঃ 

আপনি রমজান মাসের সারাদিন পানাহার বিহীন থাকছেন, যদিও আপনার ঘরে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে। আপনি যদি গোপনে পানাহার করেন অথবা দিনের বেলায় প্রকাশ্যেই পানাহার করেন কেউ আপনাকে তাৎক্ষণিক শাস্তির মুখে ফেলবে না। সুতরাং আপনার ক্ষুধা সহ্য করা একটি সাধনা। 

এদিকে, একজন সিয়াম পালনকারী হিসেবে শুধু ক্ষুধার্ত থাকাই যথেষ্ট নয়। এরপর আপনাকে আরো বেশ কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে একজন সার্থক সিয়াম পালনকারী হওয়ার জন্য।

    ১। অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা ও শোনা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা: এটা হচ্ছে আপনার সিয়ামকে সাধনায় পরিণত করার প্রথম কাজ। আপনি রমজান মাস ছাড়াও বছরের অন্যান্য সময়ও অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা ও শোনা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে সচেষ্ট থাকবেন।

আপনি হয়তো অনেকবার চেষ্টাও করেছেন। বারবার ব্যর্থ হয়েছেন। হ্যাঁ এই রমজান মাস হচ্ছে এই অসাধ্য কাজটি সম্ভব করার প্রশিক্ষণকালীন সময়। আপনি ক্ষুধার্ত অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা ও শোনা থেকে নিজেকে বিরত রাখার সামান্য চেষ্টা করলেই সফল হবেন। 

    ২। রোজাদার অপ্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ড অর্থাৎ ‘অকাজ’ সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলবে। আমরা অনেকেই জানি যে সময়ের অপচয়কারী শাস্তি খুব ভয়াবহ। দুনিয়াতেও হয়, আখেরাতেও হয়। আল্লাহ পাক আপনার সময়ের হিসাব নিবেন। সুতরাং আমরা সারা বছর যেভাবে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় কাজ বা অকাজের মাঝে সময়ের অপচয় করে থাকি তা নিছক শয়তানি ছাড়া কিছু নয়। মাহে রমজানে যেহেতু শয়তান শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকে, আমরা ক্ষুধার্ত অবস্থায় আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির জন্য সময়ের অপব্যবহার তথা অকাজের সময় নষ্ট করা থেকে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত রাখব ইনশাআল্লাহ। এরপর এই প্রশিক্ষণ সারা বছর জারি থাকবে। 

    ৩। জবান, চোখ ও কানের রোজা: বান্দা হিসেবে একজন মুমিনের প্রথম কাজ হচ্ছে নিজের জবানকে ও দৃষ্টিকে আল্লাহ পাকের জিম্মায় দিয়ে দেয়া। এটা তাকওয়া।

এবার বুকে হাত রেখে বলুন, আমরা এই কাজটি ক'জন পারি? 

না। হয়তো আমরা অনেকেই পারিনা। এজন্য রমজান মাসে আপনার জবানকে মিথ্যা-পাপাচার- ফাহেশা কথা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত রাখুন।কানকেও বিরত রাখুন ঐসব পাপ থেকে। ক্ষুধার্ত অবস্থায় আপনার জন্য এই কাজটি সহজ হবে। অনুরূপভাবে আপনার দৃষ্টিকে হারাম জিনিস বা লোভনীয় বস্তুর দেখা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত রাখুন। মুমিন যদি অনেক আমল করে কিন্তু দৃষ্টির হেফাজত না করতে পারে, তাহলে তার আমলের ভালো বা হাসানা গুলো বাতাসে যেভাবে তুলা উড়ে ওইভাবে উড়ে যেতে থাকে। এমন আমলকারী ব্যক্তি জীবনভর আমল করেও হাশরের ময়দানে হিসাবের পাল্লায় অনেক কিছুই খুঁজে পাবে না 

তাই চক্ষুকে সংবরণ করুন। ক্ষুধার্ত অবস্থায় আপনার জন্য এই কাজটি সহজ হবে।

    ৪। সাহওয়া বা যৌন তৃপ্তি থেকে নিজেকে সংযমী করে তোলা: 

সিয়াম সাধনার আরেকটি বিশেষ দিক হচ্ছে সাহওয়া থেকে নিজেকে সংযমী করা। আল্লাহপাক কোরআন শরীফে বলেছেন যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় জিনিসকে উৎসর্গ করতে না পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের প্রকৃত কল্যাণ হবে না। রমজান শরীফ আমাদেরকে তৃপ্তি-আনন্দ উপভোগ করার ক্ষেত্রে সংযমী হতে শিক্ষা দেয়; যাতে আমরা সারা বছর আল্লাহ পাকের দেওয়া বৈধতার সীমারেখা মেনে চলতে পারি। 

    ৫। ভাবনায় লাগাম টানুন: সকল কর্মের উৎপত্তি ভাবনা থেকে। হাদিস শরীফে আছে সকল কাজের ফলাফল কর্তার ভাবনা বা নিয়তের উপর নির্ভরশীল। 

মুমিনের হৃদয় হচ্ছে পবিত্র জায়গা। মস্তিষ্ক এক অবুঝ যন্ত্র। আপনার হৃদয় যে বিষয়গুলোর ব্যাপারে ভাবনা করার যোগান দিবে, মস্তিষ্ক তাই ভাবতে থাকবে। মস্তিস্কের নিজের কোন বোধশক্তি নেই। সুতরাং আপনার হৃদয়কে পরিষ্কার করুন। রাগ বা ক্রোধ, লোভ, লালসা, পরশ্রীকাতরতা, পাপ প্রবণতা ইত্যাদি থেকে হৃদয়কে পরিচ্ছন্ন করুন। ক্ষুধার্ত অবস্থায় আপনার মন্দ ইচ্ছা ও মন্দ কাজ করার বাসনা গুলো কিছুটা দুর্বল থাকে। এমতাবস্থায় পরকালে জাহান্নামে শাস্তির ভয় ও আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের প্রত্যাশাকে পুঁজি করে অন্তরের সীমানা থেকে মন্দ ইচ্ছা, মন্দ কাজ করার প্রবণতাকে ঝেটে বিদায় করে দিন। তবেই আপনি সফল। আল্লাহপাক বলেছেন যে (অন্তর) পরিচ্ছন্ন হতে পেরেছে সে সফল হয়েছে। 

এই রমজান মাসে আপনি বেশি বেশি আত্মীয়-স্বজনদের কবর জিয়ারত করুন। মৃত্যুকে স্মরণ করুন। তাদের সঙ্গে আপনার স্মৃতিগুলোকে বারবার স্মরণ করুন। আপনার যে সকল শিক্ষকগণ ও আত্মীয়-স্বজন মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের রেখে যাওয়া উপদেশগুলো বারবার স্মরণ করুন। ভাবতে থাকুন আপনিও অনিবার্য যাত্রাপথে রওনা দিয়েছেন কবরে প্রবেশ করার জন্য। তাতে তাকওয়া অর্জনের পথ সহজ হবে। ইনশাল্লাহ!

চলবে….. 

Post a Comment

0 Comments