ইন্নাল হামদা লিল্লাহ, আসসালাতু ওআসসালামু আ’লা রাসূলিল্লাহ। বছর ঘুরে আবার দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ইবাদতের মৌসুম মাহে রমজান। মানবজাতির শ্রেষ্ঠতম দল উম্মতি মুহাম্মাদির জন্য আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে অজস্র রহমত, মাগফেরাত এবং নাজাতের সওগাত নিয়ে আসছে পবিত্র মাহে রমজান। শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি সেই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের যিনি আমাদেরকে উম্মতি মোহাম্মদী করে পরম সৌভাগ্যবান হিসাবে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন এবং মাহে রমজানের মত একটি অতি মর্যাদাশীল পুরস্কার আমাদেরকে দিয়েছেন। লক্ষ-কোটি দরূদ ও সালাম মানবতার মুক্তির মহামানব সাইয়েদুল মুরসালীন রাহমাতাল্লিল আলামিন সৃষ্টিকুলের শ্রেষ্ঠ যিনি আল্লাহ পাকের হাবিব হযরত রাসূলে আকরাম (সাঃ) এর প্রতি যিনি আল্লাহ পাকের আনিত এই মহান সুসংবাদ আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম। শুকরিয়া এবং প্রার্থনা সেই আল্লাহ পাকের দরবারে যিনি আমাদেরকে একটি বছর অতিক্রান্ত করে পুনরায় রমজান মাসের কাছাকাছি নিয়ে এসেছেন এবং তিনি যেন অতি দয়াপরবশ হয়ে আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত হায়াত জিন্দেগি পৌঁছে দেন। আমিন!
রমজান এমন একটি মাস যার নেয়ামত, বরকত ও মহিমা বর্ণনা করে কোনো সৃষ্টির পক্ষে শেষ করা সম্ভব নয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যিনি- মহাবিশ্বের খালিক ও মালিক, সমগ্র সৃষ্টি জগতের একমাত্র অধীশ্বর আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জাত তিনার প্রিয় হাবিব, প্রিয় বন্ধু সাইয়েদুল মুরসালিন হাবিবুল্লাহ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অতিশয় আদর করে মহাব্বত করে এবং তার উম্মতদেরকে পূর্ববর্তী সকল নবীগণের উম্মাহের উপরে মর্যাদা দিয়ে পবিত্র মাহে রমজানের মত একটি মহান পুরস্কার দিয়েছেন। এই মহাপুরুষ্কার যিনি দিয়েছেন তিনি রাব্বুল আলামিন আর যাকে দিয়েছেন তিনি রাহমাতাল্লিল আলামিন। তাহলে এত বড় আলিশান পুরস্কারের বর্ণনা আমাদের মত মানুষের পক্ষে শেষ করা সম্ভব নয় । তবুও উম্মাহের স্বার্থে আল্লাহ পাকের দরবারে নিজের অক্ষমতা অযোগ্যতার স্বীকার করার সামান্যতম চেষ্টা হিসেবে আজ আপনাদের সামনে পবিত্র মাহে রমজানের বিশেষ কিছু পুরস্কার ও কর্তব্য বিষয়ে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। ধারাবাহিক ভাবে এই আলোচনা রমজানজুড়ে প্রতিদিনই এমন ভাবে তুলে ধরা হবে যাতে, পুরো রমজানের ৩০ টি আলোচনা পাঠ করলে ইমানদারের জেন্দিগিতে তাকওয়া অর্জন সহজ হবে। এর বাইরে আর কিছু না পড়লেও ইনশাল্লাহ যথেষ্ট হবে।
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ, পবিত্র রমজান আমাদের মাঝে এসেছে অসংখ্য পুরস্কার আর নাজ নিয়ামতের সওগাত সাজিয়ে । তার কতটুকু আমরা গ্রহণ করতে পেরেছি ততটুকুই আমাদের সৌভাগ্য, আমাদের অর্জন। আসুন জেনে নেই রমজান মাসে আমাদের সাধারণ জানা বিষয়গুলোর বাইরে আরো কি কি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় করনীয় এবং বর্জনীয় রয়েছে।
১! রমজানের করণীয় বা কর্তব্য সম্পর্কে ভালোভাবে বোঝার আগে আমাদের আরো দুটি বিষয় খুব সুন্দরভাবে ও স্পষ্টভাবে জেনে নেওয়া জরুরী তার প্রথমটি হচ্ছে রমজান এর দাবি কি বা হক কি?
আমরা রমজান শরীফের কি কি করলে ন্যূনতম হক আদায় হবে এটা বুঝে নেওয়া জরুরী।
আল্লাহ পাকের ভাষায় يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
যার ভাবার্থ এমন "হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।"
— (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৩)
বিশেষভাবে উম্মতে মোহাম্মদীকে সিয়ামের একটি মাস দেওয়া হয়েছে উদ্দেশ্য হচ্ছে তোমরা তাকওয়াবান হবে। অর্থাৎ রমজান মাসের অন্য সমস্ত নেয়ামতের মধ্যে সবচাইতে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে তাকওয়াবান হওয়া।
উম্মতি মোহাম্মাদির জন্য তাকওয়াবান হওয়া আল্লাহ পাক খুবই আবশ্যক বিবেচনা করেছেন বলেই কোরআন শরীফে অন্য জায়গায় বলেছেন يٰٓأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِۦ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ
যার বাংলা ভাবার্থ দাঁড়ায় "হে ঈমানদারগণ তোমরা আল্লাহর প্রতি তাকওয়া পোষণ করো, তাকওয়ার মত তাকওয়া অর্থাৎ প্রকৃত তাকওয়া অবলম্বন কর। তোমরা মুসলিম (আত্ম সমর্পণকারী) না হয়ে মৃত্যু বরন করোনা।"
আবার অন্য জায়গায় বলেছেন "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্মানিত ওই ব্যক্তি যিনি আল্লাহর প্রতি সর্বাধিক তাকওয়া পোষণ করেন।"
সুতরাং; এটা প্রতীয়মান হয় যে, মানুষের জন্য তাকওয়া আল্লাহপাক এর পক্ষ থেকে একটি আবশ্যক সাবজেক্ট যেটা ছাড়া কোনভাবেই একজন মুমিনের কবরে যাওয়া ঠিক নয়।
আল্লাহপাক বলেছেন তোমরা তাকওয়াবান হও এবং মুসলিম তথা সমর্পণকারী না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। তাহলে বোঝা গেল যে তাকওয়া বিহীন ঈমানদার খুঁটি বিহীন ঘরের মতো, যা দাঁড়িয়ে থাকা বা যার অস্তিত্ব অর্থহীন, কার্যকারিতাহীন।
আল্লাহপাক তাকওয়ার বিষয় মুমিনদেরকে বারবার তাগিদ দিয়েছেন।
একটি জায়গায় ঘোষণা করলেন, يٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا کُتِبَ عَلَیۡکُمُ الصِّیَامُ کَمَا کُتِبَ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَتَّقُوۡنَ
যার ভাবার্থ, "তোমাদের প্রতি সিয়ামকে ( রমজান মাসে রোজা রাখা) আবশ্যক করা হয়েছে যাতে তোমরা তাকওয়াবান হতে পারো, যা পূর্ববর্তী উম্মতদের প্রতিও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।"
সুতরাং আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে রমজান শরীফের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের তাকওয়াবান হিসাবে আল্লাহর দরবারে গৃহীত হওয়া ।
দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে আমরা যেহেতু বুঝতে পারলাম যে রমজান শরীফের মূল দাবি বা হকটা আসলে কি, এখন আমাদের বুঝতে হবে কিভাবে এই হক আদায় করব অর্থাৎ তাকওয়াবান হওয়ার জন্য রমজান শরীফের সিয়ামকে কিভাবে আমরা সাধনায় রূপ দিতে পারি।
আমরা সাধারণ মানুষ, আলেম-ওলামাদের বাইরেও প্রচুর পড়াশোনা করি, ওয়াজ মাহফিল শুনি এবং ধর্মীয় আচার -অনুষ্ঠান থেকে রমজান শরীফ ও সিয়ামের হক ইত্যাকার বিষয়ে কম-বেশি জানি। তাই আজকে এত সুবিস্তার আলোচনার আগে কতিপয় অপ্রচলিত (কম আলোচনা হয় এমন) কিন্তু অতিপ্রয়োজনীয় বিষয়ে আলোচনা জরুরী মনে করছি।
রমজান শরীফের হক আদায় করতে আমাদের সূক্ষ্ম কিছু বিষয়ে নজর দেয়া একান্তই জরুরী। যার মধ্যে কিছু আছে পালনীয় বা করণীয় আর কিছু আছে বর্জনীয়। যেমনঃ
১। প্রথমে আমরা জেনে নেই রমজানে সিয়াম পালনের নির্দেশ আল্লাহপাক কাকে দিয়েছেন ?
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই নির্দেশ দিয়েছেন মোমিনদেরকে। কোনো কাফের, মুশরিক, বেইমান, মোনাফিক বা ফাসেক-- এমন কাউকে আল্লাহ পাক নির্দেশ দেন নাই। সুতরাং বোঝা যায় রমজান শরীফ যেহেতু তাকওয়া অবলম্বন করার জন্য আল্লাহ পাকের বিশেষ একটি সুযোগ বা বোনাস সুতরাং এটা শুধুমাত্র মুমিনদের জন্যই খাছ।
২। এখন প্রশ্ন হচ্ছে মুমিন কাকে বলে ? আমি নিজেকে মুমিন বলে সাব্যস্ত করতে পারি কিনা?
রমজান শরীফের যে মহিমা, যে নিয়ামত সেটা অর্জন করতে চাইলে একেবারে এক নম্বরে কাজ হচ্ছে নিজের ঈমানকে একটু দেখে নেন ।
৩। আপনি কি করে বুঝবেন? অল্প কথায় যদি বলি, আল্লাহ পাক যা করতে আদেশ করেছেন আর যা করতে নিষেধ করেছেন আপনি যদি সমুদয় আদেশ এবং নিষেধগুলো বিনা ওজরে এক বাক্যে মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারেন তবে আপনি মুখে ঈমানকে স্বীকৃতি দিয়েছেন বলে সাব্যস্ত হয়।
এবার নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল বিষয়ের উপরে, পছন্দ- অপছন্দের উপরে, জীবন –যাপন প্রণালীর দিকে, আর্থিক ও রাজনৈতিক ভাবনা ও চিন্তার দিকে ইমানের চোখে ( আল্লাহর আদেশ-নিষেধ এর আলোকে) ভালো ভাবে তাকান। প্রয়োজনে ইসলামিক বই-পুস্তকের সহযোগিতা নিন।
এবার নিশ্চই পেয়ে যাবেন আপনার ইমানের কি হাল (অবস্থা)? মনে প্রশ্ন হচ্ছেনা, আমি কি আদৌ ইমানদার?
যেহেতু আমরা আরবি ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী নই তাই আমরা আরবি ভাষার ভাষাগত গাম্ভীর্য সম্পর্কে খুব কমই অবগত। তাই একই কলেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আমরা পড়ি কিন্তু রসূল পাক (সাঃ) এর যুগে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ কালিমা পড়লে ঈমানদারদের শাস্তি হতো, তাদেরকে হত্যা করা হতো বাস্তুচ্যুত করা হতো, দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হতো; কিন্তু কেন?
আসুন, নিজের ঈমানকে যাচাই করার জন্য লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মর্মার্থটা বুঝে নেই।
আরবি ভাষায় ব্যবহৃত ‘ইলাহ’ শব্দটির আসলে বাংলা সরাসরি কোন অর্থ হয় না। ঠিক যেমন কোরআনুল কারিমে এরকম অনেক শব্দ আছে যে শব্দগুলোর পারিভাষিক অর্থ বাংলা ভাষায় নেই।
বাংলা ভাষা আরবি ভাষার মত অত প্রাচীন এবং সমৃদ্ধ ভাষা না হওয়ায় আমরা এই শব্দগুলোর কাছাকাছি অর্থ ধরে নেই এবং সেগুলোই আমরা অর্থ হিসেবে মেনে নিয়েছি। এই জন্য বিভ্রান্তীয় সৃষ্টি হয় এবং তা ক্রমশই বাড়ছে; বাড়ছে মতভেদ বা ফেরকা।
ইলাহ শব্দের আক্ষরিক কোন অর্থ বাংলা ভাষায় নেই, এই শব্দের মর্মার্থ বা ভাবার্থ হচ্ছে, এমন এক অস্তিত্ব যাকে শুধুমাত্র উপাস্য গণ্য করা যায়।
৪। উপাস্য কি?
অন্তহীন ও অবারিত নিয়ন্ত্রণ যার। শর্তহীন আনুগত্য, কৃতজ্ঞতা, প্রশংসা, ভালোবাসা একমাত্র যারই প্রাপ্য; তিনিই উপাস্য, তিনিই ইলাহ।
তার মানে হচ্ছে আমি যদি আমার পছন্দ-অপছন্দ আমার ভালো-মন্দ চেতনার ক্ষেত্রে, আমার ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, রাজনৈতিক জীবন ও অর্থনৈতিক জীবন অর্থাৎ ঘুম থেকে উঠা থেকে আবার ঘুমানো পর্যন্ত ঘুমানো থেকে আবার ঘুম থেকে ঊঠা পর্যন্ত; জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত--- কোথাও এই একক কর্তৃত্বশীল অস্তিত্বের আনুগত্য এবং নির্দেশনার বাইরে চলার ইচ্ছা পোষণ করি তাহলে তা ইলাহ মানা হলো না।
সেই অর্থে ঈমানদার হচ্ছে ওই ব্যক্তি যে একমাত্র ইলাহ'র আদেশ-নিষেধ মেনে নেন এবং মেনে চলার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেন। জীবনের কোন ক্ষেত্রেই এক আল্লাহর নির্দেশের বাইরে বা বিপরীতে অন্য কারো নির্দেশ গ্রহণ করেন না তিনিই ঈমানদার।
আর পৃথিবীর জীবনে আপনার-আমার জন্য এটাই পরীক্ষার বিষয়।
আল্লাহ পাকের হুকুমত, তার উলুহিয়্যাত ( তিনি ইলাহ) তার রুবুবিইয়্যাত (তার কর্তৃত্ব), এবং তার নিরঙ্কুশ আনুগত্য স্বীকার করতে গিয়ে মুমিন জীবনভর প্রতি পদে পদে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হবে। আর সেই প্রতিবন্ধকতাকে কষ্ট, ত্যাগ এবং সাধনার বিনিময়ে জয় করে আল্লাহ পাকের প্রকৃত বান্দা হিসাবে নিজের মাঝে আল্লাহর একত্ববাদ বা এক ইলাহের দাবি প্রতিষ্ঠা করবে। এটাই ইসলাম।
এই বিপদসঙ্কুল পৃথিবীতে বিজয়ের জন্য আল্লাহ পাক মুমিনদেরকে একটিমাত্র অস্ত্র দিয়েছেন বা হাতিয়ার দিয়েছেন যার নাম হচ্ছে তাকওয়া।
তাকওয়া অর্জন করার জন্য মুমিনদেরকে দেওয়া আল্লাহপাকের যত উপায় পদ্ধতি পদ্ধতি আছে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠতম উপায় বা পদ্ধতি হচ্ছে সিয়াম সাধনা।
প্রিয় পাঠক, আপনি নিশ্চয়ই এতক্ষণে নিশ্চিত হয়েছেন যে রমজান শরীফের নেয়ামত গ্রহণ করার জন্য যে ন্যূনতম শর্ত তা হচ্ছে ঈমানদার হওয়া। আর ঈমানদার হওয়ার জন্য প্রথম যে স্বীকৃতি আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই এই স্বীকৃতির পক্ষে মুমিনের প্রথম অবস্থান হচ্ছে জীবনের কোথাও বা পৃথিবীর কোথাও আল্লাহর নির্দেশ এবং তার সন্তুষ্টির বাইরে সিদ্ধান্ত গ্রহন না করা এবং অনুরূপ অন্য কারো সিদ্ধান্ত মেনে না নেওয়া। এটা হচ্ছে ইমানের প্রকাশ।
এবার দ্বিতীয় যে বিষয়টি, রাসুল পাক (সাঃ) হাদীস শরীফে ফরমান; “প্রত্যেক অস্তিত্বেরই প্রকাশ্য ও গোপন রয়েছে।“
তাহলে ঈমানেরও একটি গোপন রয়েছে।
আমরা একটি হাদিসের দিকে খেয়াল করি, রাসুল পাক (সাঃ) বলেন, “ (হে আমার সাহাবীরা ও পরবর্তী যুগের উম্মাতগণ) তোমাদের মধ্য থেকে ঐ ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আমি নবী তার কাছে তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি এবং সমস্ত মানব মন্ডলী থেকে অধিকতর ভালোবাসার প্রিয় পাত্র না হবো।"
লক্ষ্য করুন, এই হাদিস যখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জবান থেকে বিবৃত হয় তখন শ্রোতা ছিলেন কারা? নিশ্চয়ই সাহাবায়ে কেরামগণ!
জী, তারা রসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটে ছিলেন। যাদের প্রশংসা আল্লাহ পাক নিজেই করেছেন। সেই আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু, ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু, ওসমান জিন্নুরাইন রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু সেরে খোদা হযরতে আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু।
অথচ আল্লাহর হাবিব বললেন হে আমার সাহাবীরা তোমাদের মধ্য থেকে ঐ ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আমি নবী তার কাছে তার পিতা-মাতা সন্তান-সন্ততি এবং সমস্ত মানব মন্ডলী থেকে অধিকতর ভালোবাসার প্রিয় পাত্র না হব।
রাসূলুল্লাহ হাদিস থেকে এটা স্পষ্ট যে অন্তরে আল্লাহ ও তার রাসূলের মহব্বত ছাড়া আর কোন মানুষের প্রতি বা নিজের প্রতি অতটুকু মায়া মহাব্বত থাকা যাবে না।
সবকিছুর চাইতে, সব মানুষের চাইতে, এমনকি নিজের চাইতেও বেশি ভালবাসতে হবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে। আর এটাই হচ্ছে ঈমান।
আজকের আলোচনায় আমরা রমজান শরীফের হক আদায় করার জন্য ন্যূনতম কি যোগ্যতা সেই বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমরা আলোচনা করেছি রমজানের নিয়ামত পাওয়ার জন্য আমাদের কি পুঁজি বা মূলধন লাগবে সে বিষয়ে।
চলবে---

0 Comments