মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য ইরান-আমেরিকা উচ্চ পর্যায়ে সামরিক বৈঠকের আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক যুদ্ধ প্রস্তুতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বৈঠককে সার্থক করে তুলে একটি চুক্তিতে ইরানকে বাধ্য করার কৌশলের পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের অভ্যন্তরে হামলা চালানোর বিকল্পের জন্যই মধ্য-প্রাচ্যে সামরিক, বিমান ও নৌ সমরাস্ত্রের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে বলে দাবি একাধিক মার্কিন সামরিক সূত্রের। খবর সিএনএন’র।
সূত্র মতে, যুক্তরাজ্যে অবস্থিত মার্কিন বিমান বাহিনীর তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং যুদ্ধবিমানসহ যুদ্ধ সরঞ্জাম গুলি মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি পুনঃস্থাপন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আমেরিকা এই অঞ্চলে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জোরদার অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে আগামী কয়েক সপ্তাহে এই অঞ্চলে মোতায়েন করা বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ইউনিটের অর্ডার বাড়ানো হয়েছে।
ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুসারে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে কয়েক ডজন মার্কিন সামরিক কার্গো বিমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে জর্ডান, বাহরাইন এবং সৌদি আরবে সরঞ্জাম পরিবহন করেছে।
গেল শুক্রবার সন্ধ্যায়, একাধিক যুদ্ধবিমানকে জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশের জন্য কূটনৈতিক ছাড়পত্র দেওয়া হয়, ওপেন-সোর্স এয়ার ট্র্যাফিক কমিউনিকেশন অনুসারে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে যে ২৫ জানুয়ারী থেকে ১২টি মার্কিন এফ-১৫ জঙ্গি বিমান জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে অবস্থান করছে।
আরও বিস্তৃতভাবে বলতে গেলে, ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ডেটা থেকে জানা যায় যে এই অঞ্চলে ২৫০ টিরও বেশি মার্কিন কার্গো ফ্লাইট এসেছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন। গত মাস থেকে তিনি ইরানি নেতাদের সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ না করে তবে তিনি আক্রমণের নির্দেশ দিতে প্রস্তুত। শুক্রবার, তিনি বলেছিলেন যে তিনি বিশ্বাস করেন যে ইরানে "শাসন পরিবর্তনই হবে সবচেয়ে ভালো জিনিস যা ঘটতে পারে"।
মধ্য-প্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধ সরঞ্জাম বৃদ্ধি করণ এবং সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়টি এই অঞ্চলটিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। একই সঙ্গে জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য আলোচনাকেও ব্যর্থ করতে পারে – এমন শঙ্কাই সামরিক-কূটনৈতিক মহলের।
উল্লেখ্য, সুইজারল্যান্ডের আলোচনায় মার্কিন পক্ষ থেকে ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার নেতৃত্ব দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে, এবং ইরানের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
.jpg)
0 Comments