আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে যে কোনো সহিংস আচরন শক্ত হাতে প্রতিরোধ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে রাজনৈতিক দলের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের কোনো ধরনের সহিংস আচরণ, কেন্দ্র দখল, ভোটে প্রভাব বিস্তার করা কিংবা উসকানিমূলক কর্মকান্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এবার রেকর্ড সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, "ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও ব্যাপকভাবে দায়িত্বে রাখা হয়েছে, যাতে যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা দ্রুত ও কঠোরভাবে প্রতিহত করা যায়। আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি তাঁরা সকলেই ঈমান, দেশপ্রেম ও কর্তব্য নিষ্ঠায় উজ্জীবিত হয়ে তাঁদের উপর অর্পিত মহান দায়িত্ব সুষ্ঠু ও সুচারুরুপে পালন করবেন।” যে কোনো সহিংসতা শক্ত হাতে দমনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই—আপনারা দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের দ্ব্যর্থহীনভাবে নির্দেশ দিন, যেন কেউ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কেন্দ্র দখল, ভোটে প্রভাব বিস্তার করা কিংবা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়। কেউ যেন সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোনভাবে গুজব না-ছড়ায়। রাষ্ট্র কোনোভাবেই এ ধরনের আচরণ সহ্য করবে না।” তিনি আরো বলেন, “ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়—একটি ত্রূটিপূর্ণ , প্রশ্নবিদ্ধ বা সহিংসতাপূর্ণ নির্বাচন শেষ পর্যন্ত কারও জন্যই মঙ্গল বয়ে আনে না। বরং দেশের সর্বনাশ ডেকে আনে। যারা জনগণের মতামত উপেক্ষা করে শক্তি ও অনিয়মের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছে, তারা সবাই শেষ পর্যন্ত জনগণের আদালতে কঠিন জবাবদিহিতার মুখোমুখি হয়েছে।” অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের সবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা।

0 Comments